আজ বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২০ইং

নেই কমিটি, পদ-পদবী তবু নির্বাচনী মাঠে সরব ছাত্রলীগ

ওসমানীনগর প্রতিনিধিঃ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে কমিটি নেই ওসমানীনগর উপজেলা ছাত্রলীগের, বার বার আশ্বাস দিয়েও কমিটি দিতে ব্যার্থ হয়েছে সিলেট জেলা ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এতে নানান জটিলতায় পড়তে হয় ছাত্রলীগের স্থানীয় কর্মিদের, প্রকৃত কর্মিরা ভুগেন আইডেন্টিটি হীনতার ক্রাইসিসে।

এতো বঞ্চনা আর পদহীনতার গ্লানি নিয়েও থেমে থাকেনি এই উপজেলার ছাত্রলীগের ত্যাগী কর্মিরা। নেতাদের কাছে অবমুল্যায়ীত হলেও উপজেলার প্রতিটি দলীয় অনুষ্টান সফল করতে সর্বদাই মাঠে সরব ছাত্রলীগ। উপজেলার সাদিপুরের ইউনিয়নের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে দল যেখানে নানান ভাবে বিভক্ত, সেখানে সব ভেদাভেদ ভুলে মাঠে সরব ছাত্রলীগ। কি রাত, কি দিন শেখ হাসিনা মনোনিত নৌকার প্রার্থী বীর মুক্তিযুদ্ধা কবির উদ্দিন আহমদের বিজয় নিশ্চিত করতে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন ছাত্রলীগের এক ঝাক প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ।প্রতিটি বাজার, গ্রাম, মহল্লায় এখন তারা সরব। নৌকার বিজয় না নিয়ে যেন ঘরে ফিরবেন না তার ।

নাজমুল ইসলাম তাদেরই একজন, সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য এবং জেলা ছাত্রলীগের এই সভাপতি পদ প্রার্থী, দীর্ঘদিন কমিটি না থাকা সিলেট জেলা ছাত্রলীগের একাংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, শহর কেন্দ্রীক রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকলেও করোনা ভিত্তি উপেক্ষা করে প্রায়ই গণসংযোগে আসছেন নৌকার পক্ষে, তাকে পেয়ে স্থানীয় ছাত্রলীগও বেশ উজ্জীবিত, প্রতিটি বলয়ের কর্মিদের এক সুতোয় গেঁথে নৌকার স্লোগানে প্রকম্পিত করছেন সাদিপুরের মেঠো পথ, সেখানে উপজেলা ছাত্রলীগের প্রায় প্রতিটি বলয়ের নেতা কর্মি জনান দিচ্ছেন নৌকার পক্ষে তাদের সরব উপস্থিতি, মিজানুর রহমান মিজান, আখতার হোসাইন রুবেল তফাদার, একে টুটুল, নিপ্পন সুত্রধর, আক্তার, মিজান, শিফন আহমদ সোহাগ, মোহাম্মদ জাকির, খায়ের, মিতুন, রুহেল আহমেদ, জুবায়ের খান, সুলতান রাজু, জাবেদ আহমদ আবির, শিমুর, জয়নাল, শায়ন, মুহিবুর রহমান মিথুন, উজ্জল, জুনেদ, আভি, সিজিল, ফাহিম, শাহিন, রাজু, উপজেলা ছাত্রলীগকে নেতৃত্ব দেওয়া কে নেই রোজকার প্রতিটি মিছিলে।

ছাত্রলীগ নেতা নজমুল ইসলাম আমাদের বলেন, দেশ ও দলের প্রতিটি দুর্যোগে সিলেট জেলা ও ওসমানী নগর উপজেলা ছাত্রলীগ সদা জাগ্রত,আসন্ন এই নির্বাচনে দেশ রত্ন শেখ হাসিনার প্রার্থী বীর মুক্তিযুদ্ধা কবির উদ্দিন আহমদকে বিজয়ী করতে ছাত্রলীগ ফল ঘোষণার আগ মুহুর্ত পর্যন্ত মাঠে থাকবে। এছাড়া তিনি আরো যোগ করে বলেন তার ইউনিট করোনা প্রতিরোধ সচেতনতা বাড়াতে কাজ করছে দীর্ঘদিন, সেই লক্ষে মানুষের মাঝে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ, ত্রাণ কার্যক্রমসহ নানাবিধ কাজে অংশগ্রহণ করেছে কিন্ত কি এক অদৃশ্য কারণে তারা বার অবমুল্যায়ীত হচ্ছেন, তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে ওসমানী নগর উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি দ্রুত করার জোড় দাবিও জানান।

ছাত্রলীগ নেতা আখতার হোসাইন বলেন, দীর্ঘ এক যুগ হলো ছাত্রলীগ করি, চাওয়া পাওয়ার হিসাব কোন দিন করিনি, জননেত্রী শেখ হাসিনা সুন্দর ভাবে দেশ পরিচালনা করছেন এতেই আমাদের তৃপ্তি, এখন তার মনোনিত প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সহযোগিতা করতে পাড়া ছাত্রলীগের একজন কর্মির জন্য বিশাল সম্মানের। তিনি আরো বলেন হয়তো উপজেলা কমিটি থাকলে আমরা আরো ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে পাড়তাম তার পরও আমরা হতাশ নই, ছাত্রলীগ কর্মিদের এই শ্রম আর ত্যাগ আমরা বৃথা যেতে দেব না, নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করেই আমরা ঘরে ফিরবো।

ছাত্রলীগ নেতা জাবেদ আহমদ আবির বলেন, নির্বাচন শুরুর প্রথম থেকেই আমরা কর্মিদের নিয়ে মাঠে আছি প্রতিদিন চলছে গণসংযোগ কিন্তু আমরা যখন কোন পথসভায় কিম্বা জনসভায় শত শত ছাত্রলীগ ভাইদের নিয়ে উপস্থিত হই আমাদের নেতারা বিষণ খুশি হোন কিন্ত সেখানে যাওয়ার পর আমাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া তো দুরের কথা বসারও জায়গা খুঁজে পাওয়া যায় না, ছাত্রলীগের কমিটি না থাকায় এই বঞ্চনা স্বীকার তারা, তিনি হতাশ, কিন্তু ছাত্রলীগের কর্মি হতে পেরে তিনি গর্বিত।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের এই গণসংযোগ কিভাবে মূল্যায়ন করছেন প্রশ্ন ছিল আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযুদ্ধা কবির উদ্দিন আহমদের কাছে, তিনি বলেন আওয়ামী লীগ একটি ঐক্যবদ্ধ পরিবার, ছাত্রলীগ আমাদের সেই পরিবারের সবচেয়ে আদরের সদস্য। ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা যেভাবে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন আমি শতভাগ আশাবাদি বিজয় আমাদের নিশ্চিত।বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বাস্তবায়নের জন্য এই ছাত্রলীগকেই আমাদের প্রয়োজন। নির্বাচন পর উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটির গুরুত্ব জেলা নেতৃবৃন্দদের সাথে আলোচনা করবেন বলেও তিনিই জানান। এই মুহুর্তে সব বিভেদ ভুলে নেতাকর্মিদের উজ্জীবিত থাকার পরামর্শ তার।

ভোরেরসিলেট/এএইচ/বিএ