আজ বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২০ইং

ভার্চ্যুয়াল বিতর্কে ট্রাম্পের এত অনীহা কেন?

অনলাইন ডেস্ক: ‘সময় নষ্ট করার মধ্যে আমি নেই।’ স্বভাবসুলভ কণ্ঠে ঘোষণা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থান-কাল-পাত্র এবং করোনা পরিস্থিতি ভুলে জানিয়ে দিলেন, ভার্চ্যুয়াল ফরম্যাটে তিনি প্রতিপক্ষ জো বাইডেনের সঙ্গে বিতর্কে জড়াবেন না। তিনি চান সামনাসামনি দাঁড়িয়ে মুখোমুখি লড়াই হোক। ঘটনা বোধ হয় একটু খোলাসা করা দরকার।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে রীতি অনুযায়ী দুই প্রার্থীকে বেশ কয়েকবার মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়। নানা বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে যুক্তিতর্কের লড়াই হয়। কথিত আছে, এই বিতর্কে যিনি এগিয়ে থাকেন, পরবর্তী চার বছর হোয়াইট হাউস তাঁর দখলে থাকে।

এবার মোট চারটি নির্বাচনী বিতর্ক আয়োজনের কথা ছিল। প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জো বাইডেন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে তিনটি। একটি ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী মাইক পেন্স এবং কমলা হ্যারিসের মধ্যে। প্রথম বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয় গত ২৯ সেপ্টেম্বর। আর ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীরা বিতর্কে অংশ নেন ৭ অক্টোবর।

ট্রাম্প ও বাইডেনের মধ্যে দ্বিতীয় বিতর্ক হওয়ার কথা ছিল ১৫ অক্টোবর। তবে ট্রাম্প করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে তা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। বিতর্ক আয়োজক কমিটি ভার্চ্যুয়াল বিতর্কের প্রস্তাব করে। দুই প্রার্থী যাঁর যাঁর জায়গা থেকে কম্পিউটার, ক্যামেরা, মাইক্রোফোন নিয়ে বিতর্কে অংশ নেবেন। সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করবেন সঞ্চালক। আর তাতেই বেঁকে বসেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। হুট করেই ঘোষণা দেন, তিনি আর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নন। তাঁর কাছ থেকে সংক্রমণের ভয় নেই। এবার পূর্বনির্ধারিত তারিখে সশরীরে উপস্থিত থেকে বিতর্ক অনুষ্ঠিত হোক।

কিন্তু চাইলেই তো আর সব হয় না। সশরীরে মঞ্চে তো আর শুধু দুই প্রার্থী থাকেন না। তাঁদের সঙ্গে সঞ্চালক থাকেন, সম্প্রচার কর্মীরা থাকেন, আয়োজনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা থাকেন, দর্শক-শ্রোতাও থাকতে পারেন। ট্রাম্পের এক কথায় এত বড় ঝুঁকি তাঁরা নেবেন কেন? হয়তো সে কারণেই অনীহা প্রকাশ করেছে কমিশন অন প্রেসিডেনশিয়াল ডিবেটস (সিপিডি)। বিতর্কের আয়োজন তারাই করে। এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ১৫ অক্টোবর যে বিতর্ক হচ্ছে না, তা এখন পরিষ্কার। কমিশন এখন ২২ অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় শেষ প্রেসিডেনশিয়াল বিতর্কের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সে তো হলো, কিন্তু ভার্চ্যুয়াল বিতর্কে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এত অনীহা কেন?

গত ২৯ সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত বিতর্ককে মোটামুটি দুর্যোগ বলা যেতে পারে। নির্ধারিত সময় শেষ হলেও থামতে চাননি ট্রাম্প। পুরো বক্তৃতাজুড়ে টানা অপমান করে গেছেন বাইডেনকে। কথার মধ্যে অযথা বাগড়া দিয়েছেন। টানা ৯০ মিনিট এসব সহ্য করা বাইডেনের পক্ষেও সম্ভব হয়নি। তিনিও মেজাজ হারিয়েছেন। একপর্যায়ে ট্রাম্পকে ‘ভাঁড়’ বলতেও ছাড়েননি।

ভার্চ্যুয়াল বিতর্কে একসঙ্গে দুটি সমস্যা এড়ানো যেত। প্রথমত, প্রার্থী, সঞ্চালক, আয়োজক ও দর্শকদের মধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব হতো। দ্বিতীয়ত, কোনো প্রার্থী নিয়ম না মানলে মাইক্রোফোন বন্ধ রেখে তাঁকে নীরব রাখা সম্ভব হতো।

স্বভাবতই বিতর্কের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করা সিপিডির জন্য কঠিন ছিল। অংশ নেওয়া প্রার্থীরা যদি নিয়ম না মানেন, তবে সঞ্চালক তাঁদের কীভাবে থামাবেন? যেখানে একজন দেশের বর্তমান প্রেসিডেন্ট, আরেকজন ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভার্চ্যুয়াল বিতর্কে একসঙ্গে দুটি সমস্যা এড়ানো যেত। প্রথমত, প্রার্থী, সঞ্চালক, আয়োজক ও দর্শকদের মধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব হতো। দ্বিতীয়ত, কোনো প্রার্থী নিয়ম না মানলে মাইক্রোফোন বন্ধ রেখে তাঁকে নীরব রাখা সম্ভব হতো। ট্রাম্প তা মানবেন কেন?

ফক্স বিজনেসের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তা স্বীকারও করেছেন ট্রাম্প। কথার মাঝে তাঁকে থামিয়ে দিলে তাঁর বক্তৃতার ধারা ঠিক থাকে না। এটা তাঁর ধাঁচে নেই। এমন বিতর্ক তিনি চান না। বলেছেন, ‘এটা কোনোভাবেই বিতর্ক নয়। আপনি একটি কম্পিউটারের পেছনে বসে থেকে বিতর্ক করছেন। এটা হাস্যকর। তা ছাড়া তাদের যখন খুশি আপনাকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। আপনাকে মানুষের মুখোমুখি হতে হবে। আর কম্পিউটারের সামনে বসে আপনি তা করতে পারবেন না।’

ভোরেরসিলেট/প্রআ/বিএ