আজ বুধবার, অক্টোবর ২১, ২০২০ইং

ফেঞ্চুগঞ্জে কৃষকের ট্রাক্টর চুরি, ভুক্তভোগী হাজারো কৃষক

ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিনিধি: সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ৫নং উত্তর ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়নের মানিককোনার ধামড়ী হাওর থেকে বৃহস্পতিবার মানিককোনা পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত নুনু মিয়ার ছেলে কৃষক মো: মামুন মিয়ার একটি লক্ষাধিক মূল্য পরিমানের হালের ট্রাক্টর গভীর চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বিত্তরা।

জানা যায়, ঐ হালের দ্বারা গত কয়েকমাস যাবত কৃষক মামুন ধামড়ী হাওরে তার নিজের বরগা জমির পাশাপাশি আরও প্রায় ৩ শতাধিক কৃষকের জমি চাষের জন্য ঐ ট্রাক্টর কাজে লাগত।

আরও জানা যায়, কৃষক মামুনের ঐ হালের ট্রাক্টরের উপর ধামড়ী হাওরের হাজারো কৃষক নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু এখন ট্রাক্টরটি চুরি হওয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের হতাশার ধোয়াশা কাটছে না।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন- গত ১৫ থেকে ২০ বছর এই ধামড়ী হাওরে কোন কৃষিকাজ হয়নি। এ বছর প্রথম সাহস করে নিজের দুইটি গবাদি পশু ও অর্ধলক্ষাধিক টাকা ঋণ করে অসহায় কৃষক মামুন মিয়া হাল চাষের জন্য ঐ ট্রাক্টর কিনেন। তিনি আরও বলেন- এই ধামড়ী হাওরের উপর হাজার হাজার কৃষক নির্ভরশীল। এ বছর মানুষ মিয়ার এই সাহসী ভূমিকার এলাকার কৃষকরা ভাল ফলনের আশা করছিল। কিন্তু এখন চাষের মৌসুম থাকাকালীন অবস্থায় বাকি আরও শতকিয়ার কৃষি জমি চাষের বাকি রয়ে গেছে। এখন এই ক্ষতি অপুরণীয়। পাশাপাশি তিনি এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং অসহায় কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য প্রশাসনের সুষ্ঠু তদন্ত দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মামুন মিয়া বলেন- আমি চুরি হওয়া আমার ট্রাক্টরের সাথে যুক্ত কিছু আলামত পেয়েছি। যে আমার এই ক্ষতি করেছে আমি তার ভয়ে উল্লেখ করছি না, যদি আমার পক্ষে মামলা করা সম্ভব হয় তাহলে আমি সে নাম উল্লেখ করব।

ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

এলাকাবাসী জানান, আমাদের এই ধামড়ী হাওরে গত ১৫-২০ বছর ধরে কোন কৃষিকাজ হয়নি। কিন্তু এবার আমরা মামুন মিয়ার উৎসাহ পেয়ে এবং যোগাযোগ ব্যাবস্থার অবনতি থাকলেও মামুন মিয়ার এই হালের মেশিনের কারনে আমরা হাওরের প্রায় ২৫০ কিয়ার জমি চাষ করেছি এখন মেশিন চুরি হওয়ার কারণে বাকি প্রায় শতকিয়ার জমি চাষ বাকি রয়েছে। হালের ট্রাক্টর চুরি হওয়ার কারণে আমরাও হতাশ এবং আমাদের চাষের বাকি জমিগুলো নিয়ে চিন্তিত। আমরা এই চুরি হওয়ার বিষয়টির জন্য তীব্র নিন্দা জানাই।

ভোরেরসিলেট/টিএইচআর/বিএ