আজ সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২০ইং

প্রধানমন্ত্রীর উপহার বসত ঘর পেল গোয়াইনঘাটের ৪০১টি পরিবার

কে. এ. আর, গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর অধীনে ‘জমি আছে ঘর নেই’ এমন চার শতাধিক পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়েছে সিলেটের গোয়াইনঘাটে। এসব পরিবার কয়েকমাস আগেই জরাজীর্ণ ও ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করেছিল। স্বামী পরিত্যক্তা, প্রতিবন্ধী, অসহায় ও হতদরিদ্র, বয়োবৃদ্ধসহ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করা এসব পরিবার প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নতুন ঘরে পেয়ে এখন মহাখুশি। এজন্য এসব পরিবারের সদস্যরা দুই হাত তুলে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নামাজ পড়েও দোয়া করছেন। পরিবারগুলোর সদস্যরা বলছেন, দেশ পরিচালনার ভার শেখ হাসিনার হাতে রয়েছে বলেই আজ তারা বাড়ি পেয়েছেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর অধীনে সারাদেশে ‘যাদের জমি আছে ঘর নেই’ এমন পরিবারগুলোকে টিনশেড ঘর তৈরি করে দিচ্ছেন। এরই অংশ হিসেবে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায়ও ৪০১টি পরিবার পেয়েছে নতুন ঘর। গোয়াইনঘাট উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে রুস্তুমপুর ইউনিয়নে ৪৭টি, পশ্চিম জাফলংয়ে ৪৩টি, পূর্ব জাফলংয়ে ৫১টি, লেঙ্গুড়ায় ৫৮টি, পূর্ব আলীরগাওঁ ৩০টি, ফতেহপুর ৩৮ টি, নন্দীরগাওঁ ৪০টি, তোয়াকুল ৩৭টি, ডৌবাড়ী ৩৫টি এবং পশ্চিম আলীরগাওঁ ইউনিয়নের ২২টি পরিবারকে এই ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে একটি করে স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিনও। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) তত্ত্বাবধানে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দপ্তরের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারভুক্ত আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর অধীনে এসব পরিবার পেয়েছে মাথা গোঁজার ঠাই।

সরেজমিন গত কয়েকদিন ধরে উপকারভোগী পরিবারগুলোর সদস্যের সঙ্গে কথা হলে, এ সময় তারা সরকারের নেওয়া এই যুগান্তকারী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, আগেকার সরকারগুলো গরিব-দুঃখী ও মেহনতী মানুষের কোনো চিন্তাই করেননি। সেখানে বর্তমান সরকার যে দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করা পরিবারগুলোর দুঃখমোচন এবং মাথা গোঁজার ঠাই করে দিয়েছেন সেজন্য তারা শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞ।

উপকারভোগী পরিবারগুলোর জানান, এই ঘর পাওয়ার পেছনে জনপ্রতিনিধি বা সরকারি কোনো কর্মকর্তাকে এক টাকাও উৎকোচ দিতে হয়নি।

নন্দীরগাওঁ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আঙ্গাজুর গ্রামের ষাট বছর বয়সী আসাদুল মিয়া। তাঁর রয়েছে এক ছেলে ও দুই মেয়ে। দিনমজুরি করে সংসার চালানোর পাশাপাশি সন্তানদের মানুষ করেছেন তিনি। দিয়েছেন মেয়েদের বিয়েও। কিন্তু ছেলে বিয়ের পর আলাদা সংসার পাতায় জীবন সায়াহ্নেহ্ন এসে পড়েছেন বড় বিপদে।

বয়োবৃদ্ধ রহিম বলেন, ‘পৈতৃক ভিটে-বাড়ির সিংহভাগই চলে গেছে ছেলেদের দখলে। বাকি তিন কড়া (এক শতাংশ) যে জায়গাটুকুন অবশিষ্ট ছিল সেখানে ঝুপড়ি ঘর বেঁধে স্ত্রী আয়মন বিবিকে নিয়ে থাকতেন কষ্টেসৃষ্টে। এই অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া টিনশেডের একটি ঘরই যেন আমাদের দিলো নতুন জীবন। বর্তমানে এই ঘরে সুখেই দিন কাটাচ্ছি আমরা।

বৃদ্ধ লতিফ আলী ও তাঁর স্ত্রী সুন্দরী বেগম বলেন, জীবনের শেষসময়ে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে নতুন ঘর পেয়ে আমরা মহাখুশি। এজন্য শেখ হাসিনার কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। শুধু রহিম নন, তাঁর মতো স্বামী পরিত্যক্ত সইফা বিবিও পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া বাড়ি। নয়াগাঁও গ্রামের মৃত্যু রইছ উদ্দিনের স্ত্রী সমই বেগম বলেন, ‘বিয়ের পর থেকে সুখেই চলছিল আমাদের সংসার। রয়েছে দুই ছেলে ও এক মেয়ে। কিন্তু সাত বছর আগে হঠাৎ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারাযান তার স্বামী রইছ উদ্দিন। এই অবস্থায় সহায়-সম্বল যা ছিল সবকিছুই ব্যয় হয়ে গেছে স্বামীর চিকিৎসায়। ঝুপড়ি ঘরে থাকতে হয়েছে আমাদের। এই অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া একটি বাড়িই যেন আমাদের কাছে শেষসম্বল। এজন্য দুই হাত তুলে আল্লাহর কাছে দোয়া করি শেখ হাসিনার জন্য। যেন তিনি দীর্ঘজীবী হউন।

এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নন্দীরগাওঁ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস কামরুল হাসান আমিরুল বলেন, ‘শেখ হাসিনার রাজনীতি হচ্ছে গরিব-দুঃখী মানুষের জন্য। তিনি যখনই সরকার পরিচালনা করেছেন তখনই এসব মানুষ যেন সুখেই দিন কাটাতে পারেন সেই উদ্যোগই নিয়েছেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে আমার ইউনিয়নের ৪০টি পরিবার পেয়েছে নতুন ঘর। এ জন্য আমি মনে করি, শেখ হাসিনার সরকার বারে বারে দরকার সব মানুষের জন্য।’ গোয়াইনঘাট উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, গোয়াইনঘাট উপজেলায় যেসব পরিবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘর পেয়েছেন তারা সকলেই একেবারে হতদরিদ্র। তাই কোনো দুষ্টচক্র যাতে ঘর দেওয়ার কথা বলে বিপন্ন এসব পরিবারের কাছ থেকে কোনো অবৈধ অর্থ হাতিয়ে নিতে না পারেন তা কঠোরভাবে নজরদারি করা হয়েছে।

সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি উক্ত বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনসহ দলীয় নেতাকর্মীদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাজমুস সাকিব বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর অধীনে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নের ৪০১টি পরিবার পেয়েছে টিনশেডের বাড়ি। ‘যাদের জমি আছে ঘর নেই, এমন পরিবারগুলোকে যাচাই-বাছাই করে তালিকাভুক্ত করা হয়। এরপর অগ্রাধীকার ভিত্তিতে এসব ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৩৭৭ টি ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হয়েছে।

ভোরেরসিলেট/কেএআর/বিএ