আজ শুক্রবার, নভেম্বর ২৭, ২০২০ইং

“শ্রাবণীর ঈদ”-আব্দুছ ছালাম চৌধুরী

আমাদের গাঁয়ে ঈদের আগের দিন ঈদগাহকে ভালোভাবে পরিস্কার করা হয়। বিগত দিনগুলোতে এর ব্যতিক্রম হয়নি। এই বৎসর ঈদগাহ পরিচ্ছন্ন করতে, আমি সহ আরও পাঁচ জনের উপর দায়িত্ব পড়লো। কথামতো সেদিন বাদ আছর সমবেত হতে, খাঁ বাড়ির পাশে গেলাম। যথাসময়ে আমি এবং সৈয়দ কবির হুসেন হাজির হলাম। কিন্তু বাকীরা আর আসলো না।
প্রতীক্ষা করতে করতে আমি কবির ভাইকে বললাম, যান ভাই একটু দেখে আসুন।

কথামতো কবির ভাই গেলেন-
ওদিকে খাঁ বাড়ির দু’তলা থেকে কেউ যে আমাকে লক্ষ্য করছে তা আমি আর খেয়াল করিনি।
হঠাৎ এক পেয়ালা হাসির সাথে,চুড়ির কনকন শব্দ কানে আসলো।
তাকিয়ে দেখি-
চার পাঁচজন কিশোরী সমেত একজন ঐ দক্ষিণ কোণে দাঁড়িয়ে আছে। তার কৃষ্ণ কালো চুলের সাথে গাঁথা লাল ফিতা।
দেখতেই কেমন যেনো হৃদ্যতায় বীণা বেজে উঠলো।
সাহস করে একটু কাশি দিয়ে ইশারা করলাম-
ঠিক তখনই বেণীগাঁথন মাথার লম্বা চুলকে ঠাস করে পিছনের দিকে ছুঁড়ে সরে গেলো।
এরই মাঝে কবির হোসেনের কথাবার্তা লক্ষ্মণীয় হওয়াতে সতর্কতা অবলম্বন করলাম।
যথারীতি আমরা সবাই মিলল ঈদগাহ’তে গেলাম, একেকজন একেকটি কাজ ভাগ করে নিলাম, একজনের কাঁদে ঘাস সাফাই, অন্যজনের কাঁদে ঝাড়ু, আমার উপর ন্যস্ত হলো,জল এনে দেয়া।
একটু কষ্টকর হলেও মনে মনে খুশিই হলাম।
ধীরে ধীরে খাঁ বাড়ির পুকুর ঘাটে গেলাম, ভাগ্য সুপ্রসন্ন, যেতেই তার (শ্রাবণী)দেখা পেলাম –
আবারও প্রশ্ন করলাম আপনার নাম জানতে পারি ?
বললো,
ইশ!
নাম দিয়ে কি হবে?
কেনো পরিচয় হতে নেই।
বাকা মুখ করে বললো, ঈদের দিন বিকালে আসিও,
তখন বলবো।
ঈদের দিন ঠিকই তার বাড়িতে গেলাম, গিয়ে দেখি অন্য গাঁয়ের বিশ পঁচিশজন লোকে বাড়ি ভর্তি।
কৌশলে একজনকে ডেকে জিজ্ঞেস করলাম
বাড়িতে এতো লোক?
সে বললো,
(আমাকে) মোহন ভাই আজ শ্রাবণীর বিয়ে…

ভোরেরসিলেট/বিএ