আজ বুধবার, আগস্ট ১২, ২০২০ইং

আওয়ামীলীগের নিবেদিতপ্রাণ একজন আব্দুল খালিছ চৌধুরী

তারেক আহমদঃ
আলহাজ্ব মো. আব্দুল খালিছ চৌধুরী। মরহুম ওয়াছিদ আলী চৌধুরী ও মরহুমা মোছাম্মৎ জহুরা বিবি চৌধুরীর ঘর আলোকিত করে ১৯৪০ সালের ২রা জানুয়ারী সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার পূর্বগৌরীপুর ইউনিয়নের মধুরাই গ্রামে জন্মগ্রহন করেন।

এটি তার পারিবারিক পরিচয়। এর বাইরে রয়েছে খালিছ চৌধুরীর আরেকটি পরিচয়। সঙ্গত কারণে পারিবারিক পরিচয়ের চেয়ে কম নয় তার এ পরিচয়টি। তার আরেকটি পরিচয় হলো জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতেগড়া সংগঠন, উপমহাদেশের প্রাচীনতম ও মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের এক নিবেদিত প্রাণ কর্মী তিনি।

আওয়ামীলীগের নিবেদিতপ্রাণ একজন আব্দুল খালিছ চৌধুরীর সাথে একান্তে কথা হয় এ প্রতিবেদকের।
বঙ্গপিতার আদর্শের সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে নাম লিখিয়েছেন যৌবন শুরুর উত্তাল সময়ে। দূর্দিন-দুঃসময়ে দলের ছায়াতলে থেকে অত্যন্ত সূক্ষতার সহিত লড়ে গেছেন একাত্তরের পরাজিত শক্তির বিরুদ্ধে।

তৎকালীন গণপরিষদ সদস্য ও বর্তমান সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং সিলেট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ এডভোকেট লুৎফুর রহমান, সাবেক সাংসদ মরহুম আশরাফ আলী, সাবেক সাংসদ মরহুম শাহ আজিজুর রহমান, সাবেক সাংসদ মরহুম এনামুল হক বীরপ্রতীক, বালাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাকুর রহমান মফুরের পিতা মরহুম মখলিসুর রহমান, অবিভক্ত বালাগঞ্জ উপজেলার দয়ামীর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা ছানাওর আহমদ মাষ্টার, বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম নেছাওর আহমদ মাষ্টার, তাজপুরের মরহুম এম এ গণি, মরহুম সালেহ আহমদ, ওসমানীনগর উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা কবির উদ্দিন আহমদ, পূর্বপৈলনপুরের প্রয়াত নেফুর আহমদ, গহরপুরের প্রয়াত মখলিছ মিয়া, সাদেকপুরের প্রয়াত ফিরু মিয়া সহ নাম না জানা আরও অনেক কৃতিপুরুষের সহযোদ্ধা হয়ে রাজনীতি করেছেন মো. আব্দুল খালিছ চৌধুরী।

মহান মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময় থেকে অবিভক্ত বালাগঞ্জ আওয়ামীলীগের বিভিন্ন কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন তিনি।
তার সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব হল তিনি মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু সরকারের আমলে একজন মুক্তিযোদ্ধ সংগঠক হিসেবে অবিভক্ত গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের (বর্তমান পূর্বগৌরীপুর ও পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়ন) রিলিফ চেয়ারম্যান হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট জাতির জনককে হত্যার পর তার সতীর্থদের সাথে আওয়ামীলীগের দুর্দিন দুঃসময়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে গিয়ে রাষ্ট্রীয় ভাবে নির্যাতন নিপীড়নের শিকার হয়েও স্বৈরাচারী জিয়া-এরশাদ ও খালেদা-নিজামী জোট সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সোচ্ছার ছিলেন।

বালাগঞ্জ উপজেলার পূর্বগৌরীপুর উচ্চ বিদ্যালয় গভর্নিং বডির দুই মেয়াদে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন মো. আব্দুল খালিছ চৌধুরী।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সবকটি নির্বাচনে নিজ এলাকায় আওয়ামীলীগের বিজয় নিশ্চিতে ভ্যানগার্ডের ভূমিকায় ছিলেন তিনি।
১/১১ পরবর্তী সময়ে ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মহান জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৩ আসনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব মাহমুদ-উস-সামাদ চৌধুরীর বিজয় নিশ্চিতে নিজ এলাকায় জনসমর্থন আদায় সহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন আওয়ামীলীগের নিবেদিতপ্রাণ আলহাজ্ব আব্দুল খালিছ চৌধুরী।

বয়োবৃদ্ধ সময়ে এসে কিভাবে দিন কাটে? প্রশ্নের জবাবে মো. আব্দুল খালিছ চৌধুরী বলেন, নিয়মিত জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্র-পত্রিকা, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সহ বিভিন্ন বরেণ্য ব্যক্তিদের জীবনী নিয়ে লেখা বিভিন্ন বই পড়েই দিনের অধিকাংশ সময় কাটে। বছর পাঁচেক আগে তার প্রিয় সহধর্মীনীকে হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়া এই মানুষটির খেলার সাথী প্রিয় নাতি-নাতনীগণ।
তিনি আরও বলেন, মাঝেমধ্যে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মাহমুদ-উস-সামাদ চৌধুরী এমপির সাথে মনের টানে দেখা করতে যাই। তিনি শত ব্যস্ততার মধ্যেও আমাকে কাছে টেনে নেন এবং আমার প্রতি তার আন্তরিকতার কমতি নেই। আমার স্থানীয় এমপি মহোদয়ের আমার প্রতি ভালোবাসা দেখে আমি অভিভূত ও কৃতজ্ঞ। আমি এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী সাহেবের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।

আওয়ামীলীগের নিবেদিতপ্রাণ আলহাজ্ব মো. আব্দুল খালিছ চৌধুরী প্রসঙ্গে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের এডিশনাল পিপি, সিলেট ল’ কলেজের অধ্যাপক, অনলাইন দৈনিক ভোরের সিলেট ডট কমের প্রকাশক এডভোকেট সুয়েব আহমদ বলেন, আমি ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৩ আসনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী জননেতা মাহমুদ-উস-সামাদ চৌধুরী এমপি মহোদয়ের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ছিলাম। আমি যখন পূর্বগৌরীপুর ইউনিয়নে জনসংযোগে যেতাম তখন আমার শ্রদ্ধেয় চাচা মো. আব্দুল খালিছ চৌধুরী আমাকে নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন পরামর্শ ও সহযোগীতা প্রদান করেছেন। তার এই অবদান অবশ্যই ভূলার নয়। নির্বাচনী প্রচারকালীর সময়ে আমি বেশ কয়েক দিন উনার বাড়িতে আথিতেয়তা গ্রহণ করি।

জীবন সায়াহ্নে দাঁড়িয়ে আওয়ামীলীগের নিবেদিতপ্রাণ আলহাজ্ব মো. আব্দুল খালিছ চৌধুরীর আক্ষেপ, সারা জীবন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের রাজনীতি করেছি। কিন্তু আজ শেষ সময়ে এসে বালাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সর্বশেষ গঠিত কমিটির কোনো স্থরেই রাখা হয়নি আমাকে। এজন্য কমিটি গঠনের সাথে যেসকল কুশলীব জড়িত ছিলেন ইতিহাস তাদের বিচার একদিন সত্যিই করবে। আমি এ ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও স্থানীয় এমপি মাহমুদ-উস-সামাদ চৌধুরী সাহেবের সদয় দৃষ্টি কামনা করছি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের বংশের সবাই দেশ বিদেশে আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত রয়েছেন। আমার বড় ছেলে আব্দুল বাসিত চৌধুরী ছাত্রলীগের দুঃসময়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ছাতক ডিগ্রী কলেজ শাখার সভাপতির দায়িত্বে ছিল এবং আইনের ডিগ্রী নেয়ার সময়ে সিলেট ল’ কলেজ ছাত্রলীগের সহ সভাপতির দায়িত্বে ছিল, বর্তমানে সে যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত এবং ছোট ছেলে আব্দুল মুকিত চৌধুরী এমসি কলেজ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিল, বর্তমানে সে পূর্বগৌরীপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আছে।

জীবন সায়াহ্নে দাঁড়িয়ে আওয়ামীলীগের নিবেদিত প্রাণ এই মানুষটির প্রত্যাশা- তিনি যেনো তার স্থানীয় এমপি সৎ, নিষ্টাবান ব্যক্তিত্ব আলহাজ্ব মাহমুদ-উস-সামাদ চৌধুরীকে মন্ত্রী হিসেবে দেখে মারা যেতে পারেন এবং একটি গরীব দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে রুপান্তর, বৈশ্বিক করোনা সংকট মোকাবেলায় অগ্রণী ও সাহসী ভূমিকা পালন, পাশ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার থেকে তাদের রাষ্ট্র কর্তৃক বিতাড়িত করে দেয়া, ১২ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দানের জন্য, পার্বত্য চট্রগ্রাম এলাকায় শান্তিচুক্তি করে তথা পাহাড়ি ও বাঙ্গালীদের মধ্যে শান্তি এবং সম্প্রীতি সৃষ্টির জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধু তনয়া, বাংলার সফল প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে বিশ্বের শ্রেষ্ট নেতা হিসেবে নরওয়ের নোবেল কমিটি আগামীতে যদি নোবেল পুরষ্কার ঘোষিত করে সেটাই হবে তার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া।