আজ বুধবার, আগস্ট ১২, ২০২০ইং

ঈদে আনন্দ নেই ক্রিকেটারদের মনে

ভোরের সিলেট ডেস্ক
শনিবারই পবিত্র ঈদুল আজহা। কিন্তু করোনাকালে ঈদুল ফিতরের মতো ঈদুল আজহাও আনন্দহীন কাটতে যাচ্ছে ক্রিকেটারদের! কারণ সংক্রমণ পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আবার বন্যা। তাই প্রাকৃতিক এই প্রতিকূলতা মন ছুঁয়ে গেছে ক্রিকেটারদের। সীমিত পরিসরে সবকিছু খুলে গেলেও ক্রিকেটারদের মনে নেই কোনও আনন্দ।

করোনাকালে ঈদগাহে গিয়ে নামাজ পড়া, কোলাকুলি করা- এসবের সুযোগ নেই। যেখানে সামাজিক দূরত্বই মূল অস্ত্র, সেখানে কোরবানিও দিতে হবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে। ক্রিকেটাররাও শামিল হচ্ছেন এসব আনুষ্ঠানিকতায়। সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা নড়াইলে ঈদ করবেন। ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম চিকিৎসার জন্য আছেন ইংল্যান্ডে, তার ঈদটা কাটবে সেখানেই।

তবে সবমিলিয়ে অস্বস্তিকর একটা ঈদই কাটতে যাচ্ছে তাইজুল ইসলামের। ঈদ উদযাপন করতে মঙ্গলবার নাটোরে গেছেন। পরিবারেরর সবার সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে বাড়ি গেলেও করোনার কারণে মূল আমেজটাতেই ভাটা পড়ে গেছে। তাই তার কাছে সার্বিক পরিস্থিতিটা অস্বস্তিকর। তিনি বলেন, ‘অন্যবার যেমনটা হয়, গরুর হাট নিয়ে একটা উন্মাদনা থাকে। এবার সেই আমেজটা পাচ্ছি না। হাটে গিয়েও ভালো লাগেনি। কেমন যেন মরা, মরা একটা ভাব! সবচেয়ে বড় কথা বাচ্চাদের আনন্দে ভাটা পড়েছে, ওরা এখন যা ইচ্ছে করতে পারছে না। আসলে আমরাই করতে দিচ্ছি না। এসব দেখে খারাপ লাগে। সব কিছু আসলে সীমিত আকারেই হয়ে গেছে।’

অপর দিকে টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের কাছেও ঈদের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষদের কথা চিন্তা করে। তিনি বলেন, ‘ঢাকাতেই ঈদ করবো। তবে ঈদ কি আগের মতো আনন্দদায়ক হবে? তবুও চেষ্টা করবো পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে যতটা আনন্দে কাটানো যায়। করোনার পাশাপাশি দেশে বন্যার অবস্থাও ভালো নয়। আসলে সত্যি কথা বলতে এভাবে ঈদ করাও কঠিন।’ তাই সবার কাছে মাহমুদউল্লাহর অনুরোধ, ‘আমরা সবাই মিলে আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ালে, কিছুটা হলেও বন্যাকবলিত মানুষরা উপকৃত হবেন।’

টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হকও ঈদ করবেন ঢাকাতে। তবে ঈদের পর দিন তিনি চলে যাবেন কক্সবাজারে। বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানও মনে করেন, আগের মতো আমেজ নেই করোনাকালের ঈদে, ‘ঈদটা ঢাকাতেই করছি। তবে ঈদের পর দিন কক্সবাজার যাচ্ছি। ওখানে বাবা মায়ের সঙ্গে কয়েকটা দিন কাটিয়ে তারপর ফিরবো। করোনার সময়ে ঈদতো আর ঈদের মতো হয় না, বেঁচে আছি সেটাইতো অনেক বড় ব্যাপার।’

একই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিনও। দুইদিন পর ঈদ, তার পরেও ভালো লাগছে না তার। এমনকি কোরবানির পশু কিনতে হাটেও যাননি। অবশ্য ভালো লাগবেই বা কেমন করে? গত ৫ মাস ধরে আটকে আছেন গ্রামের বাড়ি ফেনীতে। অন্যান্যবার দৃশ্যপট থাকতো উল্টো। ‘অন্য সময় ঈদের ২-৩ দিন আগে ঢাকা থেকে আসতাম, খুব ভালো লাগতো। এবারতো সেটি হয়নি। গত ৫ মাস ধরেই ফেনীতে, তাই আর কত ভালো লাগবে? আসলে আগের ওই অনুভূতিটা কাজ করছে না’- বলেছেন সাইফউদ্দিন।

গত ১৯ জুলাই শুরু হওয়া ক্রিকেটারদের ঐচ্ছিক অনুশীলনে যুক্ত হয়েছিলেন পেসার শফিউল ইসলাম। কয়েকদিন অনুশীলন করেই চলে গেছেন বগুড়ায়। সেখানে ঈদ উদযাপন করে ঢাকায় ফিরবেন তিনি, ‘কয়েকদিন আগে বগুড়া এসেছি। ঈদটা করে ফের অনুশীলনে ফিরবো। আপাতত এই কয়দিন পরিবারের সঙ্গে একান্তে কাটাতে চাই।’

যুব বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক আকবর আলী ঈদ করবেন দিনাজপুরে, ‘আমি এখনও বাড়িতে। ঈদ এখানেই করবো, বাবা-মায়ের সাথে। আপাতত তো ঢাকায় আসা হচ্ছে না। খেলা শুরু হলে বা অনুশীলন শুরু হলে আসতে হবে। তবে এখানেই যতটুকু পারি, কাজ করে যাচ্ছি।’

ভোরের সিলেট/বাংলা ট্রিবিউন/টিএ