আজ বুধবার, আগস্ট ১২, ২০২০ইং

আয় বেড়েছে আওয়ামী লীগের, তহবিলে আছে ৫০ কোটি টাকা

ভোরের সিলেট ডেস্ক
দশ বছরের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের গত এক বছরে ৩৫ শতাংশ আয় বেড়েছে। ওই অর্থের সঙ্গে আগের উদ্বৃত্ত মিলে দলটির তহবিলে আছে ৫০ কোটি ৩৭ লাখ ৪৩ হাজার ৫৯৩ টাকা। এর মধ্যে নগদ আছে ৫ লাখ ১৩ হাজার ৭১৭ টাকা এবং ব্যাংকে জমা আছে ৫০ কোটি ৩২ লাখ ২৯ হাজার ৮৭৬ টাকা। এর মধ্যে ৪০ কোটি টাকার এফডিআর রয়েছে। গতকাল দুপুরে আগারগাঁও নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া বার্ষিক আয়-ব্যয় ও লেনদেন প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীরের কাছে আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ ও দফতর সম্পাদক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া। আওয়ামী লীগের আয়-ব্যয়ের হিসাব-২০১৯ বর্ষপঞ্জি এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ বিষয়ের ওপর লিখিত মতামত জমা দেয় ক্ষমতাসীন দলটি। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২-এর ওপর একটি স্বতন্ত্র আইন করার প্রস্তাব করেছে নির্বাচন কমিশন। এই আইনের ওপর লিখিত মতামত দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এতে গণপ্রতিনিধিত্ব আইনটি পরিবর্তন করে ‘রাজনৈতিক দলসমূহের নিবন্ধন ২০২০’ না করার পক্ষে মতামত দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চলতি ২০২০ সালের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ৩৩ শতাংশ নারী রাখার যে শর্ত আরোপ করা হয়েছিল সে বিষয়ে সময় চেয়েছে আওয়ামী লীগ। নির্বাচন কমিশন বলেছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২-এর পরিবর্তে ‘রাজনৈতিক দলসমূহের নিবন্ধন-২০২০ নামে অভিহত হইবে’। এখানে আপত্তি জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। দলটি বলছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ একটি পূর্ণাঙ্গ আইন। এটা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান করে গেছেন। এখানে কোনো অসঙ্গতি নেই। আওয়ামী লীগ মনে করে এ আইন পরিবর্তনের কোনো দরকার নেই। আইনটি যেভাবে আছে সেভাবেই থাকুক। এই আইন পৃথক করে করা হলে মানুষ বিভ্রান্ত হবে।
নির্বাচন কমিশনের বেঁধে দেওয়া ২০২০ সালের মধ্যে ৩৩ শতাংশ মহিলা সদস্য রাখার বিষয়ে আওয়ামী লীগ আরও সময় চেয়েছে। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগ ওই শর্ত পূরণে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সময় বাড়াতে লিখিত মতামত দিয়েছে। দলের একটি সূত্র জানিয়েছে, এ প্রসঙ্গে মতামত বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করে যাচ্ছেন। দল ও সরকারে নারীর ক্ষমতায়নে আওয়ামী লীগ যে পরিমাণ কাজ করেছে অন্য কেউ করেনি। দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ২২ শতাংশ মহিলা সদস্য রয়েছেন। এ ছাড়াও দলের সহযোগী সংগঠন মহিলা আওয়ামী লীগ ও যুব মহিলা লীগ পৃথক সংগঠন রয়েছে। অন্য সব রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নিয়েই ৩৩ শতাংশ মহিলা সদস্য সময় বাড়ানো দরকার বলে মনে করে আওয়ামী লীগ। এ জন্য আগামী ২০২৫ সাল পর্যন্ত সময় বাড়ানো যেতে পারে বলেও মতামত দেওয়া হয়।

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের তহবিলে নগদ ছিল ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৯৬৮ টাকা। সে সময় ব্যাংক হিসাবে জমা ছিল ৩৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৪ হাজার ৮৭০ টাকা। ২০১৯ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আয় হয়েছে সর্বমোট ২১ কোটি দুই লাখ ৪১ হাজার ৩৩০ টাকা। এ সময়ে যেসব খাত থেকে আয় হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো : নমিনেশন ফরম বিক্রি বাবদ ১২ কোটি ৩২ লাখ ৩০ হাজার টাকা, সম্মেলন বাবদ প্রাপ্ত ৩ কোটি ২ লাখ ৫৫ হাজার ৮০০ টাকা, ব্যাংক লভ্যাংশ বাবদ ২ কোটি ৩৩ লাখ ৭৫ হাজার ২২৩ টাকা, সংসদ সদস্যদের প্রদেয় চাঁদা বাবদ ১ কোটি ৭ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।

এ ছাড়া কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের মাসিক চাঁদা, জেলাভিত্তিক প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ চাঁদা ও প্রাথমিক সদস্য ফরম বিক্রি, কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের হল ভাড়া, পত্রিকা প্রকাশনা ও বিজ্ঞাপন (উত্তরণ) এবং পুস্তক বিক্রিসহ অন্যান্য খাত থেকে বাকি আয় হয়েছে। ২০১৯ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সর্বমোট ব্যয় হয়েছে, ৮ কোটি ২১ লাখ ১ হাজার ৫৭৫ টাকা। যেসব খাতে ব্যয় হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন বাবদ ৩ কোটি ৪৩ লাখ ১৪ হাজার ৮০০ টাকা, কর্মচারীদের বেতন, বোনাস, আপ্যায়ন ও অন্যান্য খরচ বাবদ ১ কোটি ১৩ লাখ ৭৭ হাজার ৭০০ টাকা, বিভিন্ন অনুষ্ঠান বাবদ ব্যয় ১ কোটি ১৮ লাখ ১৮ হাজার ৮৬৫ টাকা, সভানেত্রীর কার্যালয় ভাড়া বাবদ ৫৫ লাখ টাকা।

এ ছাড়া নির্বাচন পরিচালনা অফিস, অফিস রক্ষণাবেক্ষণ, ত্রাণ কার্যক্রম, উত্তরণ পত্রিকা প্রকাশনা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি, বিভাগীয়, জেলা জনসভা ও দলীয় অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা, বিজ্ঞাপন ও পোস্টার প্রকাশনা বাবদ, সাংগঠনিক খরচ, কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সার্ভিস চার্জসহ অন্যান্য খাতে বাকি অর্থ ব্যয় হয়েছে।

ভোরের সিলেট/বিডি প্রতিদিন/টিএ