আজ রবিবার, আগস্ট ৯, ২০২০ইং

বালাগঞ্জ উপজেলা হাসপাতাল, অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার কারখানায় পরিণত

তারেক আহমদ, বালাগঞ্জঃ
অনিয়ম আর অব্যবস্থাপনার কারখানায় পরিণত হয়েছে বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অনিয়ম-দূর্নীতির একাধিক সংবাদ গনমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরও দায়সারা ভাব স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের।
বালাগঞ্জ হাসপাতালে ভূয়া রোগী ভর্তি দেখিয়ে বিল উত্তোলন, খাদ্য সরবরাহে অনিয়ম, হাসপাতালের আবাসিক কর্মকর্তা ডা. মামুন নিয়ম বহির্ভূত ভাবে ডিউটি টাইমে হাসপাতালে রোগী না দেখে প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখা নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়।
নিজের দায় এড়াতে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এস এম শাহরিয়ার গত ৩০ জুন অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
কমিটিকে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নিদের্শনা প্রদান করা হয়।
৫ দিন অতিবাহিত হয়ে প্রায় ১ মাস অতিবাহিত হওয়ার পথে।
কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদনের কোনো হদিস নেই।

শীতলপাটির রাজধানী খ্যাত শান্তির জনপদ বালাগঞ্জ উপজেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার এমন বেহাল দশায় তাই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন বালাগঞ্জের জনসাধারণ। বালাগঞ্জের সর্বত্র আলোচনার বিষয় এখন বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
দেশ ছাড়িয়ে প্রবাসেও মাতামাতি চলছে বালাগঞ্জের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এমন হাল-হকিকত নিয়ে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বালাগঞ্জ উপজেলার প্রবাসীরা হাসপাতালের এমন অনিয়ম নিয়ে হতাশা প্রকাশ করছেন। বালাগঞ্জ হাসপাতালে অনিয়ম-দূর্নীতির সাথে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান তারা। স্বাস্থ্যখাতে বর্তমান সরকারের সকল অর্জন এবং সুনাম কিছু অসাধূ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কারণে বিনষ্ট হতে পারে না বলে জানান তারা।

সম্প্রতি বালাগঞ্জ হাসপাতালের অনিয়মের ঝুলিতে যুক্ত হয়েছে নতুন বিষয়।
বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তারের পরিবর্তে রোগীদের সেলাই কার্য সম্পাদন করেন ওয়ার্ড বয়।
জানা যায়, গত ১লা জুলাই দুপুরে বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য আসেন উপজেলার সদর ইউনিয়নের শাহজাহানপুর গ্রামের সালেহ আহমদের ছেলে জুবায়ের হাসান। তার পায়ে জখমকৃত অংশটি সেলাই করে করে দেন হাসপাতালের একজন ওয়ার্ড বয়।
এছাড়াও গত ১০ জুলাই পার্শ্ববর্তী উপজেলা রাজনগরের এক যুবকের ও ১৮ জুলাই উপজেলা সদরের পূর্ব খেয়াঘাটে বাকবিত-ার জেরে গুরত্বরভাবে আহত হয়ে মাথায়, শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম নিয়ে এমরাজুল ইসলাম, মুজাহিদ আলী হাসপাতালে গেলে তখনও সেলাই দিতে দেখা যায় ওয়ার্ডবয়দের। এ সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু ভিডিও এবং তথ্য-প্রমাণাদি এ প্রতিবেদকের নিকট সংরক্ষিত আছে।
শুধু জুবায়ের, এমরাজুল ইসলাম, মুজাহিদ কিংবা আলীদের ক্ষেত্রে নয়, এই হাসপাতালে আসা এমন প্রায় সবার ক্ষত স্থানে সেলাই দেওয়ার কাজটি করে থাকেন হাসপাতালের ওয়ার্ডবয়রা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ড বয়’রা বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই হাসপাতালে এটাই নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, ১লা জুলাই হাসপাতালের জরুরী বিভাগে জান্নাতুল ফেরদৌস নামের এক চিকিৎসক দায়িত্বরত ছিলেন। তার সহকারী হিসাবে ছিলেন অমিতা রায় নামের একজন। ওয়ার্ড বয়ের দায়িত্বে ছিলেন দেবাসীস দাস দিপ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ওয়ার্ডবয়দের “এক কাজ করা কি আপনাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে? জিজ্ঞেস করলে সেলাইয়ের কাজ করা একাধিক ওয়ার্ডবয় বলেন, এসব আমাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ মেনেই করতে হচ্ছে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, সেদিন আমি অন্যান্য কাজে ব্যস্ত থাকায় জরুরী বিভাগের ক্ষত রোগীকে দেখে ব্রাদার অমিতাবয়কে সেলাই করতে বলি। ব্রাদার বা স্বাস্থ্য সহকারীর উপস্থিতিতে ওয়ার্ডবয়ের সেলাইয়ের কোন নিয়ম আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেলাইয়ের কাজটা শুধু বালাগঞ্জের ক্ষেত্রেই নয়, সারা বাংলাদেশেই ওয়ার্ডবয়রা করে থাকেন।

এ ব্যাপারে বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এস এম শাহরিয়ারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ওই সময় ওয়ার্ডের কর্মরত ডাক্তার আন্তঃ বিভাগে এক রোগীকে ছাড়পত্র দিতে যান। তাই ওয়ার্ডবয় সেলাই দেয়।

ভোরের সিলেট/টিএ