আজ বুধবার, আগস্ট ১২, ২০২০ইং

নবীগঞ্জে অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে চেয়ারম্যান-মেম্বারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে সরকারী আশ্রয়ণ (গুচ্ছ-গ্রাম) প্রকল্পে অন্যজনের জায়গা দখল করে জোরপূর্বক তৈরিকৃত দেকানঘর সরিয়ে নেয়ার কথা বলায় আউশকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান হারুন ও পরিষদের স্থানীয় সদস্য হাজী দুলাল মিয়ার বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে অপপ্রচার করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, গত ১৯ জুলাই আউশকান্দি ইউনিয়নের গুচ্ছ-গ্রাম প্রকল্পের বাসিন্দা নজিম উদ্দিনের স্ত্রী ছায়ারুন বেগম মুহিবুরের নামে ইউপি অফিসে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন (অভিযোগ নং-২০২০/৭৫)।

অভিযোগে বলা হয়- গুচ্ছ-গ্রাম প্রকল্পে সরকারী ঘর পাওয়া ছায়ারুন বেগমের ঘরের সামনে অভিযুক্ত মুহিবুর জোরপূর্বক অবৈধভাবে একটি দোকান ঘর স্থাপন করে। এতে অভিযোগকারী ছায়ারুন বাঁধা দিলে তাকে অশ্লিল ভাষায় গালিগালাজ করে মুহিবুর। এমনকি প্রাণে মেরে ফেলবার হুমকিও প্রদান করে। পরে, ইউপি অফিসে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ছায়ারুন।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে মুহিবুরকে ইউপি অফিসে তলব করা হয়। এতে উপস্থিত ইউপি সদস্যগণের সামনে মুহিবুর অবৈধভাবে স্থাপনকৃত দোকান তুলে নিবেন এবং ভবিষ্যতে একমর কার্যক্রম আর করবেনা বলে লিখিতভাবে মুচলেখা দেন। আর এই ঘটনাকে আড়াল করতেই তিনি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করছেন।

আউশকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান হারুন ও সদস্য দুলাল মিয়া বলেন, গত ১৯ জুলাই উপজেলার পারকুল গ্রামের মৃত সোনাফর মিয়ার ছেলে মুহিবুর রহমান নবীগঞ্জ থানায় ও উপজেলা প্রশাসনের নিকট একটি ভিত্তিহীন অভিযোগ দায়ের করেছেন, এগুলি মিথ্যা ও অপপ্রচার আর মানহানি করা ছাড় কিছু নয়।

মুহিবুর রহমানের বিরোদ্ধে ইউপি অফিসে অভিযোগকারী ছায়ারুন বেগম বলেন, মুহিবুরের সাথে সমস্যা হয়েছিলো। এতে আমি ইউপি অফিসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে মুহিবুর আর এমন করবেনা বলে ইউপি অফিসে লিখিত দিয়ে আসে। এখন তিনি অযথাই চেয়ারম্যান ও মেম্বারের মানহানী করছেন।

তবে, অভিযুক্ত মুহিবুর রহমান তার উপর আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পরিবারের নিরাপত্তার স্বার্থে থানায় ও উপজেলা প্রশাসনের নিকট একটি অভিযোগ দায়ের করেছি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবগত করেছি।

নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত কুমার পাল বলেন, অভিযোগ পেয়ে বিষয়টি দেখার জন্য সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে নবীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুমাইয়া মমিন বলেন, আমি মৌখিক ভাবে বলেছি সরকারের দেওয়া ঘর ব্যতিত অন্য ঘরটি সরিয়ে নিতে। যতটুকু ঘর ততটুকু ব্যবহার করতে। তহশিলদার ঘটনাস্থলে গিয়েছেন এবং তিনি বলেছেন ঘরটি সরিয়ে নিতে।

বিষয়টি নিয়ে ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো: রাসেল আহমদ এর সাথে যোগাযোগ হলে তিনি জানান, মুহিবুর মিয়া যে জাগায় আলাদাভাবে দোকানের জন্য ঘরটি তৈরি করেছে এটি তাকে দেওয়া হয়নি। গুচ্ছ-গ্রাম প্রকল্পে যার যার ঘরের নির্ধারতি স্থান দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে কেউ ঘর তৈরী করতে পারবেন না। উনাকে বলা হয়েছে ঘরটি সরিয়ে নিতে। আজকে সরিয়ে নেওয়া কথা থাকলেও সে এখন পর্যন্ত ঘরটি সরিয়ে নেয়নি।

ভোরের সিলেট/এসটি/টিএ