আজ রবিবার, জুলাই ১২, ২০২০ইং

বিশ্বমানের পিসিআর ল্যাব শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েরঃ ড. শামসুল হক প্রধান

শাহ সালমান মাহমুদ, শাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ  বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পরে গত ১৮ই মে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিসিআর ল্যাবে কোভিড-১৯ এর নমুনা পরিক্ষার জন্য পিসিআর ল্যাবের  উদ্বোধন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

পিসিআর ল্যাবে মুখোমুখি হওয়া চ্যালেঞ্জ ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে কথা হয় শাবিপ্রবির জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রধান ড. শামসুল হক প্রধান এর সাথে।

যিনি পড়াশোনা করেছেন বিধান চন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ভারত ( B. Sc Hon’s), টোকিও ইউনিভার্সিটি অব এ্যাগ্রিকালচার, জাপান (M. Sc and Ph. D), ইউনিভার্সিটি অব সুকুবা, জাপান( University of Tsukuba, Japan, post doctoral), ইউনিভার্সিটি অব সুকুবা এবং ইরারাক্কি প্রিফেকচুরাল ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সাইন্স, জাপান ( Collaborative post doctoral)

১৮জন সদস্যের একটি টিম নিয়ে ক্লান্তিহীন ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন শাবিপ্রবিতে কোভিড-১৯ এর নমুনা পরিক্ষার জন্য।

জি.ই.বি. বিভাগের সাথে সহযোগিতা করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইফ সাইন্স অনুষদের অন্য বিভাগ বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজি।

ড. শামসুল হক প্রধানের সাথে প্রতিবেদকের কথোপকথনঃ

প্রতিবেদকঃ স্যার, কেমন আছেন?
ড. শামসুলঃ ভালো।

প্রতিবেদকঃ প্রথমেই, আমরা জানতে চাঁই পিসিআর ল্যাব আসলে কি?

ড. শামসুলঃ পলিমার চেইন রিয়াকশন ল্যাব, যেখানে জেনেটিক মেটেরিয়াল RNA, যা অনুজীবসহ প্রত্যেক জিবের কোষে অবস্তিত নিউক্লিয়াসে থাকা ক্রোমোজমের মধ্যে পাওয়া যায়, এর কপি পিসিআর মেশিনের মাধ্যমে তৈরী করে এর এক্সপ্রেসন দেখা হয় আর্টিফিশারের মাধ্যমে। এবং যখন কোনো RNA তে ডিজায়ার্ড ব্যান্ড পাওয়া যায়, তখন ঐ RNA বহনকারি ব্যাক্তিকে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

প্রতিবেদকঃ ল্যাবে এখন মোট কয়জন সদস্য কাজ করছেন?

ড. শামসুলঃ এখন মোট ১৯ জন সদস্য কাজ করছেন। শুরুতে ২১ জন ছিলেন, একজনের বাবার মৃত্যু ও অন্যজনের ব্যাক্তিগত সমস্যা থাকায় ১৯ জন কাজ করছেন।

প্রতিবেদকঃ এর মধ্যে শিক্ষার্থী সংখ্যা কতজন?

ড. শামসুলঃ মোট নয়জন শিক্ষার্থী কাজ করছেন, যারা মাস্টার্স বা পিএইচডি তে অধ্যয়নরত। এবং এদের সবারই বিভিন্ন গবেষণায় কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে।

প্রতিবেদকঃ ল্যাব পরিচালনার জন্য যে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছিলো, সেক্ষেত্রে আপনারা কি কোন  ধরনের অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছিলে? সেগুলো কি?

ড. শামসুলঃ জিইবিতে প্রথম থেকেই বায়োমলিকিউল DNA, RNA  সহ অন্যান্য বিষয় পড়ানো হতো এবং অনেকগুলো সাধারণ পিসিআর দিয়ে গবেষণার অভিজ্ঞতা থাকায় খুব বেশি সমস্যা হয় নাই। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের নির্দেশনা অনুযায়ী বায়ো সেইফটি ল্যাব, যাতে ভাইরাস ছড়িয়ে না পরে বা অন্য কেউ এর দ্বারা আক্রান্ত না হন, স্থাপনে লকডাউন থাকার ফলে জিনিসপত্র কেনার জন্য ফ্যাকালটি মেম্বাররা বেশ হিমশিম খেয়েছেন। তাঁরা রাতদিন শ্রম দিয়ে এই সমস্যা থেকে বের হয়ে কাজ করে গেছেন।

প্রতিবেদকঃ রোগির নমুনা কিভাবে সংগ্রহ করেন আপনারা?

ড. শামসুলঃ এখানে রোগীর থেকে সরাসরি নমুনা নেয়া হয় না। বেশিরভাগই সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিস থেকে টেকনিশিয়ান দ্বারা ডাটাসহ আমাদের কাছে পাঠানো হয়। পাশাপাশি সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ সিলেট সিভিল সার্জন বিভিন্ন উপজেলার নমুনা পাঠান।

প্রতিবেদকঃ গবেষণার জন্য অন্য কাউকে বা প্রতিষ্ঠানকে নমুনা বা ডাটা দেয়া হচ্ছে কি?

ড. শামসুলঃ না, এখনও কাউকে দেয়া হয় নাই। আমরা নিজেরাই কাজ করব আর সেজন্য রিপোর্ট দেয়ার পর আমরা ডাটা রাখি এবং পরে এগুলো নিয়ে কাজ করব।

প্রতিবেদকঃ এই কাজ করতে গিয়ে কি কি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন?

ড. শামসুলঃ স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে কিট আনতে গিয়ে সমস্যা হয়েছিলো এক বা দুইবার। যেমন: যে পরিমাণ কিট লাগে তা পাওয়া যায় না এবং এগুলা আনতে গিয়েও প্রচুর সময় লাগে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন ক্লাস নেওয়াটাও একটু চ্যালেঞ্জের, যেহেতু ফ্যাকালটি মেম্বাররা এই ল্যাবে কাজ করছেন।

পাশাপাশি, ঢাকাতে আমাদের এখান থেকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আনতে পাঠানো হলে গুরুত্বহীনতা এবং প্রচুর সময় নষ্ট হয়ে যায়। সকালে গেলে সারাদিন চলে যায় এবং যে পরিমাণ কিট লাগে সে পরিমাণ কিট পাওয়া যায় না। তারপরও অনেক যোগাযোগ করে এগুলো নিয়ে আসি ও সবগুলা সমস্যা মোকাবিলা করে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

প্রতিবেদকঃ এ ব্যপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আন্তরিকতা কেমন?

ড. শামসুলঃ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যথেষ্ট আন্তরিকতা রয়েছে। মাননীয় উপাচার্য ড. ফরিদ উদ্দিন, তিনি সব সময় খোঁজ খবর রাখেন এখন আমাদের প্রয়োজনীয় যখন যা লাগে, তা দিয়ে আমাদের সাহায্য সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।

প্রতিবেদকঃ পিসিআর ল্যাব নিয়ে আপনার কি কোন ভাবনা বা মতামত আছে?

ড. শামসুলঃ আমি মনে করি আামাদের এই ল্যাব বিশ্বমানের হয়েছে। ওয়াইল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের সব ধরনের নির্দেশনা মেনে এই ল্যাব তৈরি করা হয়েছে।

আমি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষকে বলব, আমরা ভবিষ্যতে পুনরায় গবেষণা করতে চাই এবং এ জন্য যেন আমাদের প্রয়োজনীয় ফান্ড দিয়ে সহায়তা করা হয়।

আমরা বিভিন্ন জায়গায় ল্যাব স্থাপনে কাজ করছি এবং আমাদের যারা ওসমানী মেডিকেলে আছেন, সবাই বেশ কৃতিত্বের সাথে কাজ করে যাচ্ছে।
এছাড়া, আমাদের যারা গ্রাজুয়েট শিক্ষার্থী আছে, তারা যথেষ্ট প্রতিভাবান ও বিশ্বমানের, তাদের যেন চাকরির ক্ষেত্রে একটা ব্যবস্থাপনা হয়, সেজন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আর্জি রাখব।

প্রতিবেদকঃ ধন্যবাদ স্যার, আপনার মহামূল্যবান সময় দিয়ে আমাদের সাথে কথা বলায়। সিলেটবাসীর উদ্দেশ্যে আপনার কোন বক্তব্য?

ড. শামসুলঃ ধন্যবাদ। আপনাদের মাধ্যমে সিলেটবাসীকে বলবো, করোনা ভাইরাস নিয়ে আতংকিত হবেন না। সাবধানতা অবলম্বন করে এর নির্মূল করা সম্ভব।

সবাই ভালো থাকবেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন: