আজ রবিবার, জুলাই ১২, ২০২০ইং

অপকর্মে লিপ্ত থাকায় এমপি পাপুল ও তার স্ত্রীর বহিষ্কার চায় জাপা

ভোরের সিলেট ডেস্ক
মানবপাচারের মামলায় কুয়েতের কারাগারে আটক রয়েছেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য কাজী শহীদ ইসলাম পাপুল ওরফে কাজী পাপুল। তার বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে পাপুলের স্ত্রী সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলাম, মেয়ে ওয়াফা ইসলাম ও সেলিনার বোন জেসমিনের (পাপুলের শ্যালিকা) বিরুদ্ধেও।

সম্মানহানি, মানবপাচারের মতো অনৈতিক ও গুরুতর অপকর্মে লিপ্ত থেকে এমপি পাপুল এবং তার স্ত্রী জাতীয় সংসদের পবিত্রতা ক্ষুণ্ণ ও শপথ ভঙ্গ করেছেন বলে মনে করে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। একারণে দ্রুত স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই সংসদ থেকে বহিষ্কার করা উচিত বলেও মত দেন দলটির একাধিক নেতা।

তারা বলেছে, ‘এমপি পাপুলের এরকম কর্মকাণ্ডে বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। সংসদ সদস্য হিসেবে একজন আইন প্রণেতার কাছ থেকে দেশের মানুষ এমনটা আশা করে না। এমপি পাপুল শুধু নয় তার পুরো পরিবার এ অপকর্মে জড়িত। তাদের দৃশ্যমান দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া জরুরি। এতবড় অপকর্মের হোতা স্ত্রীসহ কিভাবে এমপি হলেন তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বরং এর সঙ্গে যারাই জড়িত তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে বলেও মনে করে জাতীয় পার্টি’।

এবিষয়ে রোববার (২৮ জুন) রাতে জাতীয় পার্টির মহাসচিব সংসদ সদস্য মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, এমপি পাপুল যা করেছে অবশ্য অন্যায়। তার দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া দরকার। সংসদীয় রীতি নীতি ও আইন অনুযায়ী স্পিকার যদি মনে করে তাকে সংসদ থেকে বহিষ্কার করা দরকার, তাহলে তাই করা উচিত বলে আমি মনে করি।

‘এমপি পাপুল এবং তার স্ত্রী নিজেদের ও পরিবারকে শুধু অপমানিত করেনি, দেশকে বিদেশের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করেছে। এজন্য তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের মুখোমুখি করা দরকার। যাতে ভবিষ্যতে এধরনের অপকর্মে কেউ জড়িত না হয়’- বলেন রাঙ্গা।

অভিযোগ আছে, লক্ষীপুর-২ আসনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পায় দশম সংসদে জাতীয় পার্টির ওই আসনের এমপি মো. নোমান। কিন্তু বিদেশ থেকে অর্থবিত্ত নিয়ে এসে পাপুল এমপি নোমানকে ম্যানেজ করে এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। টাকার বিনিময়ে নোমানের বিরুদ্ধে মনোনয়ন প্রত্যাহারের অভিযোগও রয়েছে। পরে ভোটে জিতে এমপি হন পাপুল। এমপি হওয়ার পর থেকে তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। মানবপাচারের রমরমা বাণিজ্যে মেতে উঠেন তিনি। পরবর্তীতে স্ত্রী সেলিনা ইসলামের জন্যও বাগিয়ে নেন কুমিল্লার সংরক্ষিত আসনের এমপির পদ।

মানবপাচারের অপকর্ম অব্যাহত রাখার মধ্যেই এ অভিযোগে ৭ জুন তাকে আটক করে কুয়েত ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট সিআইডি। এখন তিনি কুয়েতের কারাগারে আটক রয়েছেন।

ভোরের সিলেট/রাইজিং বিডি/টিএ

সংবাদটি শেয়ার করুন: