আজ শনিবার, জুলাই ১১, ২০২০ইং

তথ্য প্রযুক্তি ও তথ্য বিপ্লব

Information & technology

ডেস্ক রিপোর্ট

তথ্য প্রযুক্তি বলতে বোঝায় তথ্যের সংগ্রহ করা, তথ্যের প্রক্রিয়া করা। এছাড়ারা তথ্যকে ধারণ করা, সংরক্ষণ করা, তথ্য পুনরুদ্ধার করা, প্রেরণ করা, বিশ্লেষণ করা ও ব্যবহার করাও তথ্য প্রযুক্তির কাজ।

আমাদের ব্যক্তি, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে তথ্য প্রযুক্তির প্রভাব অপরিসীম। মনে কর, সমুদ্র উপকূলে বায়ুচাপ ভীষণ হ্রাস পেল। এই উপাত্তকে বিশ্লেষণ করে আবহাওয়া বিজ্ঞানী জানলেন যে প্রচণ্ড  জলোচ্ছ্বাস হবে । এ তথ্য রেডিওতে প্রচারিত হলে সমুদ্র উপকূলের অনেকের জীবন রক্ষা পাবে। এতে ব্যক্তিগত জীবন রক্ষা যেমন পেল, তেমনি এলাকাবাসী তাদের সম্পদ ও জীবন রক্ষার কাজে এই তথ্য ব্যবহার করে উপকৃত হল। সমুদ্রের জাহাজগুলো নিরাপদ আশ্রয় থেকে রাষ্ট্রীয় সম্পদগুলো রক্ষা করতে পারল।

আবার মনে কর, মাটির নিচে মজুদ খনিজ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেল। এই তথ্য পেতে অবশ্যই আধুনিক প্রযুক্তি লাগবে। যেমন শদ তরঙ্গ পাঠিয়ে বা চুম্বকক্ষেত্র মেপে তথ্য পাওয়া গেল। সেই তথ্য কম্পিউটারে বিশ্লেষণ করে বা গাণিতিক হিসেব কষে জানা গেল তেল, কয়লা বা খনিজ সম্পদের উপস্থিতি। আমাদের ব্যক্তি, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবন এর দ্বারা প্রভাবিত হবে।

চিকিৎসা ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির প্রভাব তুমি সহজেই অনুধাবন করতে পার। কঠিন কোন অসুখ যেমন- হ্রদরোগে বা ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে তা নির্ণয়ে তথ্য সংগ্রহ প্রয়োজন। যদি হার্টের বা টিউমারের অস্ত্রোপাচার হয় সেখানেও তথ্যপ্রযুক্তি অত্যাবশ্যক। তথ্য বিপ্লবের ফলে বিভিন্ন রোগের লক্ষণ, বিভিন্ন ওষুধের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া, নানা রকম ব্যাধির চিকিৎসায় অর্জিত অভিজ্ঞতা ইত্যাদি সবই ইন্টারনেটে পাওয়া সম্ভব।

শিক্ষাক্ষেত্রে বিজ্ঞান চর্চা ও গবেষণায় তথ্যপ্রযুক্তির প্রভাব অত্যন্ত ব্যাপক ও গভীর। তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে যেকোনো বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ যেমন সহজ, তথ্য পৌছে দেওয়াও তেমনি সহজ।

খেলাধূলা, সাহিত্য,শিল্পকলা, অর্থনৈতিক কর্মকান্ড, প্রাকৃতিক  দূর্যোগ, নতুন আবিষ্কার ও উদ্ভাবন সম্পর্কে সবকিছু জানতে পারি আমরা তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে।

আসলে তথ্যপ্রযুক্তি নতুন একটা সম্ভাবনা তুলে ধরেছে জ্ঞান আহরন ও জ্ঞান সৃষ্টিতে। বিশ্বের জ্ঞান ভান্ডার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। একে বলা হয় – তথ্যবিপ্লব।

তোমরা খেয়াল করেছ কম্পিউটার ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তথ্য ধারণ ও সংরক্ষণ এবং তথ্য পুনরুদ্ধার ও প্রেরণ কত সহজ ও দ্রুত  হয়েছে।

একই পরিমাণ তথ্য আদান-প্রদান  ও প্রক্রিয়াজাত করতে প্রথম দিকের কম্পিউটার যেখানে পুরো একটি দালান দখল করত, আধুনিক ল্যাপটপ কম্পিঊটার সেখানে একটি বইয়ের সমান জায়গা নেয়। বিদ্যুৎ খরচ ও কমে গেছে আগের তুলনায়। বলা হয়ে থাকে, যদি আধুনিক একটি একটি ক্ষুদ্র কম্পিউটারের পরিবর্তে যদি প্রথম দিকের পুরানো ভাল্ব কম্পিউটার ব্যবহার করা হত, তাহলে পুরো এক নদীর পানি লাগতো তা ঠান্ডা করতে।

এখন যে জ্ঞানের বিস্তরণ হচ্ছে তাতে প্রতি দশ বছরে বিশ্বের জ্ঞান দ্বিগুন হচ্ছে। এক দিকে তথ্যপ্রযুক্তি এর কারণ, অন্যদিকে তথ্যপ্রযুক্তি এর ফল।

আধুনিক যুগের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল সমগ্র বিশ্ব এখন তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে সংযুক্ত। আমাদের স্নায়ুতন্ত্র যেমন দেহের বিভিন্ন অংশের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে অনেকটা সেরকম। তুমি যদি এই তথ্য জগতের অংশ হয়ে উঠতে চাও তা সহজেই করতে পার ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোন ব্যবহার করে।

ভোরেরসিলেট/ডেস্ক/বদরুল

সংবাদটি শেয়ার করুন: