আজ মঙ্গলবার, মার্চ ৯, ২০২১ইং

দলীয় অসহযোগিতাই নৌকা পরাজয়ের মূল কারণ- মো. রুহেল আহমদ

গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি:: গোলাপগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে বহুমুখী ষড়যন্ত্রের মধ্যেও যারা ভোট দিয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং পৌরসভার সকল নাগরিকদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন নৌকা প্রতীক নিয়ে পরাজিত প্রার্থী পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রুহেল আহমদ। সেই সাথে নব নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন আশাকরি তারা জনরায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পৌরবাসীর উন্নয়নের কাজ করে যাবেন।

মঙ্গলবার রাতে পৌরসভার ফুলবাড়িস্থ নিজ বাস ভবনে গোলাপগঞ্জে কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় কালে এসব অভিব্যক্তি ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, যখন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যখন বক্তব্যে বলেছিলেন দলের বিদ্রোহী ও বিতর্কিত কাউকে নৌকা প্রতীক পাবেন না। তখন উপজেলা ও পৌর আওয়ামীলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের পরামর্শ নিয়ে আমি মেয়র পদে নির্বাচনের জন্য দলীয় মনোনয়নের জন্য আবেদন করি । মনোনয়ন পেতে কোন ধরনের লবিং তদবির করিনি। শুধু আমি নই এবার যারা মনোনয়ন পেয়েছিলেন তদবির লবিংয়ের কোন সুযোগ ছিলনা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর নিয়ে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছেন। পরবর্তীতে নিজেদের মনোনয়ন না পাওয়ার কারণ হিসেবে দুই বিদ্রোহী প্রার্থী ভুল তথ্য দিয়ে জনগন কে বিভ্রান্ত করেছেন। তারা আসল সত্য জানতেন যা গোপন করেছেন, তারা আওয়ামীলীগের বিভিন্ন সুবিধা নিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করেছেন। আজকে শুধু মনোনয়ন না পাওয়ায় নৌকার বিপক্ষে নেত্রীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে জনগনকে বিভ্রান্ত করেছেন। যা নৌকার পরাজয়ে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিল।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে সময় মাত্র এক মাস সময় পেয়েছিলাম। নির্বাচনী কাজে জেলা আওয়ামীলীগ ও উপজেলা আওয়ামীলীগের দুই একজন নেতাদের পেয়েছি। আর কিছু নেতা ছবি তুলে পরবর্তীতে অপর স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করেছেন। প্রভাবশালী দু’এক নেতা বিশাল অংকের টাকা বিনিয়োগ করেন নৌকাকে আটকানোর জন্য।

সর্বোপরি দলীয় অনেক নেতাদের অসহযোগীতা নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে। এমনকি নির্বাচন পরিচালনা কমিটি নামমাত্র ছিল। নির্বাচনের দিন দুই চারজন আওয়ামীলীগ নেতা ছাড়া আর কাউকে পাইনি। মনোনয়ন দলীয়ভাবে দেওয়া হলেও ব্যক্তির উপর টার্গেট করা হয়েছিল। অনেকেই দল করে টাকা বানালেও তা দলের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছেন ।

তিনি অভিযোগ করেন, নিজের এলাকার ভোটারদের গোছিয়ে আনলেও আমার অজান্তে এলাকায় ভোটের আগে পুলিশী তল্লাশি করা হয়, যা আমার ভোটে নেগেটিভ এফেক্ট করেছে। প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের পক্ষ থেকে আমাকে নানা হয়রানী করা হলেও আমি থানা কিংবা নির্বাচন কমিশনে কোন অভিযোগ করিনি। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিচ্ছিন্নভাবে প্রার্থী নির্বাচন ভুল বলে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে। আমি প্রার্থী নতুন হতে পারি, কর্মী নতুন নয়। দুই যুগের অধিক ক্যারিয়ার আছে আমার রাজনীতিতে। আজকে যারা নৌকা পরাজয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে মায়া কান্না করছেন তারা সত্যিকারের বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কর্মী হলে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে, আদর্শ না বিকিয়ে নৌকার প্রতি বিরাগভাজন হতো না, নৌকার পক্ষে কাজ করে যেতেন । রুহেল আহমদ বলেন, আমার ভুল হতে পারে, সামনের দিনে ভুলগুলো শুধরে এগিয়ে যেতে চাই।

এসময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, পৌর আওয়ামীলীগকে গোছানো বা পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য সদ্য বহিষ্কৃত সভাপতিকে বার বার তাগদা দিয়েছিলাম। তিনি কোন ধরনের কর্নপাত করেননি। যা জেলা উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ অবহিত আছেন। আগামীতে পৌর আওয়ামীলীগে সত্যিকারের কর্মীরাই স্থান পাবে।

তিনি বলেন, নির্বাচনে দলীয় অসহযোগিতা যেমন ছিলো তেমনি নানা গুজব, অপপ্রচার অপরাজনীতি ও ব্যাপক টাকা ছড়াছড়িই নির্বাচনের পরাজয়ের কারন যা আমি সামাল দিতে পারিনি। তিনি অপর এক প্রশ্নের জবাবে জানান, কেন্দ্র জানতে চেয়েছে, শীঘ্রই পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে দলীয় কার্যক্রম সম্পর্কে লিখিতভাবে অবহিত করা হবে।

ভোরেরসিলেট/এমএআর/বিএ

আজকের সংবাদ