আজ মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৬, ২০২১ইং

গোলাপগঞ্জে আমনের বাম্পার ফলন: কৃষকের মুখে হাসি

এম.এ রাজ্জাক, গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি: গোলাপগঞ্জ উপজেলার কৃষি জমিতে এখন কৃষকের সোনালী স্বপ্ন বাতাসে দোল খাচ্ছে। অগ্রহায়ণ মাসের প্রথম থেকে কৃষকের ঘরে উঠতে শুরু করেছে নতুন ধান। এ বছর পরপর তিনবারের বন্যায় কৃষি ক্ষেত্রে অনেকটা প্রভাব পড়লেও কৃষকেরা অনেকটা সফলতা লাভ করতে পেরেছেন বলে স্থানীয় কৃষকদের দাবী। আমনের বাম্পার ফলনে কৃষকের চোখে-মুখে হাসি ফোটে উঠেছে।

উপজেলার প্রতিটি কৃষি জমিতে শোভা পাচ্ছে সোনালী ধানের শীষ। যেদিকে চোখ যায় নয়ন জুড়িয়ে যায়। ভোরের শিশির ভেজা সোনালী ধানের শীষে ঝলমল করছে মাঠ। সোনালী স্বপ্নে বাঁধভাঙা আনন্দ-উল্লাস প্রতিটি কৃষক পরিবারে। ঘরে আমন ধান তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। ইতিমধ্যে ৪০শতাংশ ধান ঘরে তুলতে পেরেছেন। এজন্য মাঠ জুড়ে দুলতে থাকা সোনালী ধান কাটতে ইতিমধ্যে সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ থেকে আগত দিন মজুর শ্রমিকদের নিয়োগ করেছেন এলাকার কৃষকরা। শ্রমিকরাও করোনাকালিন সময়ে কোথাও কাজ না পেয়ে অনেকটা কম পারিশ্রমিকে কাজ নিচ্ছেন। আমন ধান কাটার মূল সময় হচ্ছে অগ্রহায়ণ মাস। এই মাসে পুরোদমে ধান কাটা ও মাড়াই শুরু করেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। এবার আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় কৃষকরা আমন ধান আবাদে যদিও সন্দিহান ছিলেন, তবুও শেষ সময়ে আমনের বাম্পার ফলনে তাদের বেশ উৎফুল্ল দেখাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর উপজেলায় ১১ হাজার ৪শ ৫০হেক্টর জমিতে আমন ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১হাজার ৩’শ হেক্টর জমি। মঙ্গরবার উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে মাঠগুলোতে যতদূর চোখ যায় চারদিকে শুধু সোনালী ফসলের সমারোহ দেখা গেছে। পুরো মাঠ যেন সোনালী রঙে সেজেছে। চলতি মৌসুমে মাঠে অন্য বছরের চেয়ে ধানের চাষ ভালো হয়েছে। কেওটকোনা গ্রামের কৃষক আব্দুল মতিন জানান, তিনি এ বছর ২ বিঘা জমিতে আমন ধানের চারা রোপণ করেছেন। তার জমিতে ভালো ফলন হয়েছে। ভাদেশ্বর ইউনিয়নের খমিয়া গ্রামের আব্দুল হাসিম জানান, এবছর আবহাওয়া অনুকূূলে থাকায় আশানুরুপ ফলন পেয়েছি। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে থেকে আগামী মৌসুমে সার, বীজসহ ধানের চারা পরিচর্যা করার যথেষ্ট পরার্মশ পাওয়া গেলে আরো ভালো ফলন আশা করছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ খায়রুল আমীন জানান ‘বাম্পার ফলন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে আমরা মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন ধরণের কাজ করে আসছি। কৃষকরা যাতে লাভবান হতে পারেন ও কোনো প্রকার সমস্যায় না পড়েন সেজন্য আমরা সার্বক্ষণিক নজর রাখছি। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমরা বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখেছি। মাঠে অনেক ফলন হয়েছে। আশা রাখি শেষ পর্যন্ত লক্ষমাত্রার উপরে ধান তুলতে সম্ভব হবেন কৃষকরা।

ভোরেরসিলেট/এমএআর/বিএ