আজ মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৬, ২০২১ইং

কমলগঞ্জে মাটির দেয়াল ধ্বসে সর্বহারা এক পরিবারের দুই বিধবা নারী

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ পৌর এলাকায় মাটির দেয়াল ধ্বসে সর্বহারা এক পরিবারের দুই বিধবা মহিলা। শীতেরদিনে মাটির দেয়ালের বাড়িটি ধসে পড়ায় আশ্রয়হীন হয়ে পড়ছেন তারা।

বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎ মাটি ধ্বসে পড়ে বড়গাছ গ্রামে দিন মজুর মরহুম রাজা মিয়ার বাড়ী।

মরহুম রাজা মিয়ার দুই বউ জাহানারা বেগম ও ছোট বউ হালিমা বেগম জানান, দীর্ঘ ১১ বছর পূর্বে স্বামী দিনমজুর মোঃ রাজা মিয়া মারা গেছেন। তাদের পরিবারে তিন ছেলে দুই মেয়ে রয়েছে। সেলাই মেশিন ও গৃহিণী কাজ করে দুই বিধবায় চালাচ্ছে তাদের সংসার। তাদের সন্তানই বেকার। সেলাই মেশিনে এলাকার মানুষের কাপড় তৈরি করেই সংসার চলছে কোনরকম। স্বামীর রেখে যাওয়া মাটির দেয়ালের একটি জরাজীর্ন ঘরে বসবাস করে আসছিলেন এই দুই বিধবা নারী। তাদের জীবন চলে পাড়া-প্রতিবেশিদের কাছে হাত পেতে নেয়া চাল-ডালে।

দুই বিধবা নারী আরও বলেন, হতদরিদ্র অবস্থায় পাড়া-প্রতিবেশিদের কাছে হাত পেতে নেয়া চাল-ডালে খেয়ে না খেয়ে জীবন চলে তাদের। সরকারের দেয়া বিধবা ভাতার টাকায় চলে তাদের ওষুধ খরচ। স্বামীর রেখে যাওয়া মাটির দেয়ালের জরাজীর্ণ বাড়িটিই ছিল তাদের মাথা গোঁজার ঠাই। হঠাৎ করে মাটির বাড়িটির দেয়াল ধসে পড়ে। বরাবরের মতো ধসে পড়ার দিনেও তারা ওই বাড়িতেই ঘুমিয়েছিলেন। ধসে পড়া মাটির ঘরে কিভাবে থাকবেন জানেন না তারা। একটি ঘরের জন্য অনেকবার আবেদন করেও কপালে তা জুটেনি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটা বসবাস উপযোগী ঘরের দাবী রয়েছে তাদের।

স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর জামাল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের ঘর দেখেছি। তাদের ঘরের জন্য অনেকবার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিসে আবেদন করিয়েছি। কিন্তু কোন ব্যবস্থা হয়নি। কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র জুয়েল আহমেদ বলেন, ‘বিধবা নারীদের দেয়াল ভাঙা ঘর দেখে পৌরসভার পক্ষ থেকে এক হাজার ইট ও ৪ বান টিন দিয়ে ঘর বানানো পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ভোরেরসিলেট/জেএ/বিএ