আজ মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৬, ২০২১ইং

সিলেটে নাট্যকর্মীদের গায়ে হলুদে অতিথিদের গাছের চারা উপহার

উত্তম কাব্য: “গাছ লাগাই জীবন বাঁচাই”এই কথাটি আমরা সব সময়ই শুনে আসছি। তবে কয়জন মানুষই বা এই কথা বুঝি বা মনে রেখে গাছ লাগাই। অথচ এই গাছই আমাদের অক্সিজেন দিয়ে বাঁচিয়ে রাখে।

আমাদের পরিচিত বা আশেপাশে যাদেরই বিয়ে হয় বিয়েতে আমরা জানি যে সব সময়ই বর-কনেকে আশীর্বাদ স্বরূপ কোনো না কোনো উপহার দেয়া হয়। বাঙালিদের কিন্তু এই রীতি যুগ যুগ ধরে চলে আসছে।

তবে গতকাল সিলেটের একটি বিয়ের গায়ে হলুদে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ দেখা যায়। গায়ে হলুদে আমন্ত্রিত অতিথিদের হাতে বর-কনের পক্ষ থেকে তুলে দেয়া হয় বিভিন্ন জাতের গাছের চারা।

লিটল থিয়েটার সিলেট এর নাট্যকর্মী দেবজ্যোতি দেবু ও উত্তরা সেন পম্পার বিয়ের গায়ে হলুদ ছিল গতকাল বুধবার সিলেট নগরীর অভিজাত একটি কমিউনিটি সেন্টারে। সেখানেই তাদের গায়ে হলুদে আগত আত্মীয় স্বজন, নাট্যকর্মীসহ শিশুদের হাতেও অনুষ্ঠান শেষে যাওয়ার সময় তুলে দেয়া হয় বিভিন্ন রকম গাছের চারা।

নিম, তুলসী, পুদিনা, পেঁপে, টমেটো, মরিচ সহ বিভিন্ন জাতের মোট একশটি গাছের চারা তুলে দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বর নাট্যকর্মী দেবজ্যোতি দেবু জানান, আমাদের আশেপাশে শহরে এখন শুধু সবুজ কমছে। কার্বন বাড়ছে। যেখানে গাছ আমাদের অক্সিজেন দিয়ে বাঁচিয়ে রাখে অথচ উন্নয়নের নামে গাছ কাটা হচ্ছে। গতকাল ও নগরী চৌহাট্টায় বুদ্ধিজীবী কবরস্থান এর গাছ কাটা হল। কিন্তু গাছ লাগানো হচ্ছে কই?

আমাদের এই ছোট্ট প্রয়াস থেকে আমরা প্রত্যেককে এই একটি গাছ দিয়েছি। উৎসাহিত হয়ে যদি কেউ আরো দুইটি গাছ লাগান তাহলেই আমাদের এই কষ্ট স্বার্থক।

এমনকি তাদের এই গায়ে হলুদের স্টেজে গায়ে হলুদ লেখার পরিবর্তে লিখতে দেখা যায় “প্রকৃতিমঙ্গল”।

এ সম্পর্কে ডিজাইন শিল্পী ও নাট্যকর্মী অরূপ বাউল জানান, আমরা মানুষরা সবসময় গাছ কেটে যেখানে-সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলে প্রকৃতিকে নষ্ট করেই চলেছি কিন্তু এই প্রকৃতিই আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছে। তাই এই নাম দেয়ার পেছনে একটাই কারণ যে আমরা যেন প্রকৃতিকে ভালবাসতে পারি কেননা “প্রকৃতির মঙ্গল হলেই আমাদের মঙ্গল”।

বর ও কনে এই অনুষ্ঠান স্বার্থক করতে যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন এবং তাদের নতুন জীবনের জন্য সকলের আশীর্বাদ প্রত্যাশা করেছন।

ভোরেরসিলেট/উত্তম/বিএ